রংপুরে শরতের কাশফুল প্রান মুগ্ধ বেরোবির ক্যাম্পাস - Daisnews24.com
Daisnews24.com
বুধবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  1. ENGLISH
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইত্রামি
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. পাঁচমিশালী
  12. প্রবাসে বাংলাদেশ
  13. ফটোগ্রাফি
  14. বিনোদন
  15. মতামত

রংপুরে শরতের কাশফুল প্রান মুগ্ধ বেরোবির ক্যাম্পাস

প্রতিবেদক
ইয়াসিন হোসেন রাকিব
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ ৭:২৫ অপরাহ্ণ

ছয় ঋতুর আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে শরৎকাল। এই ঋতুতে নানা রং এর ফুলের সমারোহ থাকলেও মায়াবী কাশফুল মানুষকে আকৃষ্ট করে অনেক বেশি। শরতের মৃদু বাতাসে কাশফুলের উপচে পড়া যৌবন সেখানে মনের অৎানেন্তই আপনাকে প্রবল আকর্ষণ করবে।বর্ষার অবিশ্রান্ত বৃষ্টির টুপটাপ গান যখনই মানুষের মনকে বিষন্ন করে তুলে, ঠিক তখন নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা নিয়ে শরৎকালের আগমন ঘটে।

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ায় নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) তে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটেছে সারি সারি কাশফুল। শরতের পরিপূর্ণ রূপমাধুরদী মিশিয়ে যেন ক্যাম্পাসকে সাজিয়েছে নবরূপে। শহীদ মিনার, খেলার মাঠের চারপাশ, মসজিদের পেছনে, বিভিন্ন হলের চারপাশে দোল খাচ্ছে শুভ্র কাশফুল।

সন্ধ্যার আগে বিকেলের রোদ যখন সাদা ফুলেদের গায়ে পড়ে বড় আনমনা মানুষটিও তখন সেই সৌন্দর্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। অথবা ঠিক দুপুরে যখন নীল আকাশ ভেঙে রোদ নেমে আসে তখন সাদা কাশফুলেদের দল ভাবুক হৃদয়ে দোলা দেয়।এমন অনেক বিকেল বেরোবির শিক্ষার্থীদের মনে আঁচড় কেটে আছে। মন খারাপের বেলায় আড্ডায় মেতে উঠে এখানকার প্রেমিকেরা।

আরও পড়ুনঃ কোম্পানীগঞ্জের নতুন পারকুল থেকে ১০ জুয়াড়ি গ্রেফতার।

কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী। সেই পুরোনো দিনে স্মৃতি মনের কোটরে তাদের বার বার হাতছানি দেয়। এই বুঝি প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারলাম। প্রিয় আঙ্গিনাকে ঠিক কতটা অনুভব করছেন বেরোবিয়ানরা!

প্রকৃতির নানা ধরনের উদ্ভিদ ও ভালোলাগার বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমারোহ আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশেষ করে কাশফুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি প্রেমিদের নিকট ধরা দেয় ভিন্ন আঙ্গিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কথা হয় বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র ফজলে রাব্বির সাথে। তিনি বলেন, চলমান মহামারির কারনে দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শরতের এই শুন্যতা হৃদয়ে অনুভব করছি কাশফুলের মাধ্যমে। হয়তো গত বছরের মতো এবারেও কাশফুল ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটেছে কারন করোনা প্রকৃতির পরিবেশকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগের সভাপতি জয়কে নিজজেলা অবাঞ্চিত ঘোষণার হুমকি

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাসান বলেন, এবারের শরৎ একটু আলাদা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই। শিক্ষার্থী ফেরার অপেক্ষায় মনকাড়া কাশবনগুলো। কাশফুলের সাথে ছবি তোলা, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা অকে চমৎকার বিষয়।। প্রাণহীন ক্যাম্পাসে প্রাণের সঞ্চার করেছে কাশবন। কাশফুল ধরে রেখেছে সৌন্দর্য।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুরাদ বলেন, কাশফুলের প্রেমে পড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ অনেক গান রচনা করেছেন। তার গান শুনলেই শরতের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। ক্যাম্পাসের কাশফুল আমাকে বিমোহিত করে। এ রকম অভিব্যক্তি প্রকৃতিপ্রেমী সব শিক্ষার্থীর সব মানুষের।

তবে ক্যাম্পাসে প্রতিবছরের মত দর্শনার্থী না থাকলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে ক্যাফেটেরিয়া ভিড় নেই। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছে, আবার কেউ প্রিয়তমার জন্য ফুল নিতে আসে । তবে এই বিপদের সময়েও সবকিছু উপেক্ষা করে প্রকৃতিপ্রেমী কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে ঘুরতে আসছে। তাঁদের ক্যামেরায়, মুঠোফোনে তোলা ছবি দেখে দেখেই বাকিদের এবারের ভার্চ্যুয়াল শরৎ–বিলাস উদ্যাপন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাই ক্যাম্পাসে ফেরার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুনঃ তোমাকে দেখার জন্য আর তর সইছে নাঃ শিশির

বেরোবির বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শরৎ মানেই কাশফুল, নীল আকাশ আর দিগনন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। আর কাশফুল হলো শরৎ, প্রকৃতি এবং বাংলার মানুষের এক চিরন্তন সঙ্গী। এটা কাউকে বিমর্ষ করে না। কাশফুলের সৌন্দর্য আমাদের মনের সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে।রুপসি বাংলার অপার ঋতু বৈচিত্রের সাথে বাঙালির চরিত্রের রয়েছে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। একেক ঋতুর একেক সাজ যেন বাঙালি হৃদয়ের বিশালতার প্রতিচ্ছবি। তাই পূঁথিগত শিক্ষার সাথে প্রকৃতির আলিঙ্গন ছাড়া ওই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না।

ক্যাম্পাসের শরৎ উপভোগ করতে করতে কখন যে প্রকৃতির আকাশে সন্ধ্যার আভা নেমে আসে বুঝতেই পারা যায় না। কাশবনেও যেন নেমে আসে বেলা শেষের স্তবদ্ধতা। এই ¯স্তবদ্ধতার সুযোগে প্রতিদিন সূর্য মামাও বিদায় জানাতে পিছপা হয় না।

শরৎকালের নাম শুনলে মনের গভীরে ভেসে উঠে স্বচ্ছ নীল আকাশের সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে কাশফুলের সমারোহ। নীল আকাশে সাদা মেঘের নিচে শরতের সাদা কাশফুল যেন মনের আঙ্গিনায় নতুন প্রেমের আলোড়ন তুলে। শরতের ছোয়ায় বিমোহিত হয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ‘আজি কি তোমার মধুর মূরতি, হেরিনু শারদ প্রভাতে! হে মাত বঙ্গ,শ্যামল অঙ্গ ঝুলিছে অমল শোভাতে।’

আরও পড়ুনঃ গুগোল নতুন ফিচার নিয়ে আসছে

নাগরিক কোলাহল আর যাপিত জীবনের নানা ব্যাস্ততার মাঝে মাঝে চুপিচুপি আসে শরৎ। শরতের বিকালে নীল আকাশের নিচে দোলা খায় শুভ্র কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা শরৎ ছাড়া আর কে ভাসাতে পারে?
তাই তো প্রতি বছরের মত এবারও ক্যাম্পাস বেরোবিও সেজেছে শরতের শুভ্র ছোয়ায়। দোল খাচ্ছে, কাশফুল। তবে তা যেন এসেছে গত বছরের মতো এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায়।

প্রিয় পাঠক সংবাদটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো তার মতামত দিতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।

প্রতি মূহুর্তের সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক বা টুইটারে ফলো দিয়ে সঙ্গে থাকুন…

সর্বশেষ - ইত্রামি