হামাস কেন রকেট ছুড়ে? ~ ফরহাদ মাজহার - Daisnews24.com
Daisnews24.com
বৃহস্পতিবার , ২০ মে ২০২১ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  1. ENGLISH
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইত্রামি
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. পাঁচমিশালী
  12. প্রবাসে বাংলাদেশ
  13. ফটোগ্রাফি
  14. বিনোদন
  15. মতামত

হামাস কেন রকেট ছুড়ে? ~ ফরহাদ মাজহার

প্রতিবেদক
ইয়াসিন হোসেন রাকিব
মে ২০, ২০২১ ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

গাজায় ইসরাইলী হামলা ও বোমা মারা নিয়ে এর আগে আমরা চিন্তা পত্রিকায় লিখেছি। হামাস কেন রকেট ছুড়ে? 

আজ থেকে ছয় বছর আগে আমরা ব্যাখ্যা করে বলার চেষ্টা করেছি ‘কেন হামাস রকেট ছোঁড়ে?”। কিন্তু সেটা একপক্ষিক ব্যাপার নয়, সেটা ঘটে ‘ইসরাইল’ নামক একটি ঔপনিবেশিক-হানাদার প্রকল্পের চরিত্র এবং সমরনীতির কারণে। প্রতিশোধ নেবে জেনেও হামাস রকেট ছোঁড়ে।


ফরহাদ মাজহার


আমরা তার ব্যাখ্যা দিয়েছি। নতুন করে এখন যখন গাজা ও হামাস আবার আন্তর্জাতিক খবরের শীর্ষে উঠে এসেছে, তখন পুরানা কথার পূর্বানুবৃত্তি না করে আগ্রহীদের জন্য লিঙ্ক দিচ্ছি।

আমরা কোন ইসলামি বা আরবি উৎসের বরাত দিয়ে হামাস কেন রকেট ছোঁড়ে তার যুক্তি বা ব্যাখ্যা দেই নি। প্রমাণ করতে চেয়েছি, ধর্ম নির্বিশেষে যে কেউই স্বীকার করবেন ইসরাইলের নীতি হচ্ছে আরবদের হত্যা করা।

এর পক্ষে আমরা বরাত দিয়েছি বিখ্যাত সাংবাদিক গিডিওন লিভির, যিনি জন্মসূত্রে ইহুদি এবং ইসরাইলের নাগরিক।


আরও পড়ুনঃ Bangladeshi Agro-tech eco-system in the last 2 years


দিয়েছি, কারণ বাংলাদেশে আমরা এখনও জন্মসূত্রে ইহুদি হওয়া এবং ইহুদিবাদি(zionist) হওয়ার গুরুতর ফারাক বুঝি না। এটা বাংলাদেশের ইসলামপন্থিরা বোঝেন না, তা নয়, অন্যেরাও বোঝে না।

ইহুদিবাদ (Zionism) সাম্রাজ্যবাদের যুগের জাতীয়তাবাদেরই একটা বর্ণবাদী রূপ, সেটা বাঙালি জাতীয়তাবাদীরাও বোঝে্ন না।

পার্থক্য হচ্ছে মতাদর্শ হিশাবে জাতিবাদ শুধু সেকুলারদের মতাদর্শ নয়, ধর্মতত্ত্ব এবং আধুনিক জাতিবাদ ইহুদি ধর্মের মধ্যে আধুনিক কালে একাকার হয়ে গিয়েছে। ইসলামপন্থিদের মধ্যেও একাকার হয়ে যাবার ঝোঁক ভালভাবেই বর্তমান।


আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্থার প্রতিবাদে জয়পুরহাটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ


বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গেই ইহুদিবাদের আন্তরিক মিল। সেই মিল থাকলেও, ইসলামপন্থিরা যদি জাতিবাদী মতাদর্শের পর্যালোচনা করতে না শেখে তাহলে তাদের মধ্যেও ধর্মকে জাতিবাদী মতাদর্শে পর্যবসিত করার ঝোঁক বাড়বে।

বিশেষত যখন তারা দাবি করে এই দেশে নব্বই ভাগ মুসলমান, অতএব বাংলাদেশ মুসলমানদেরই দেশ হবে – এটা আসলে ইহুদিবাদ (Zionism)।

কোন একটি ভূখণ্ডের ওপর কোন একটি জাতির একচেটিয়া অধিকারের দাবি কোরানুল করিমে নাই। এটা ভূখণ্ডবাদ নামে পরিচিত।

পুরা সৃষ্টি জগত আদম সন্তানদের। সে যেখানে খুশি সেখানে যাবার অধিকারী। আধুনিক রাষ্ট্রের দেয়াল অতএব আজ হোক কাল হোক ভেঙে পড়বে।

এই দিকটা বুঝলে হিন্দুত্ববাদকে চিনে নিতেও আমাদের ভুল হবে না। উপমহাদেশে ইহুদিবাদের সবচেয়ে বিকশিত তত্ত্ব হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ।


আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবীতে মোংলায় মানববন্ধন


যখন দাবি করা হয়, ভারত আর্যভূমি এবং এই ভূখণ্ডে শুধু হিন্দুদেরই বসবাসের অধিকার আছে, তখন ভারতীয় ভূখণ্ডবাদের সঙ্গে ইহুদিবাদের কোন ফারাক থাকে না।

আর্যরা ভারতের বাইরে থেকে এলেও তাদের আসা বৈধ, কিন্তু ইসলাম পরে এসেছে বলে উপমহাদেশে ইসলামের কোন অধিকার নাই।

এই হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শই হোল উপমহাদেশীয় ইহুদিবাদ। ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের ইসরাইল প্রীতি্র মতাদর্শিক জায়গাটা এখানে। একে মোকাবিলা করতে হলে ইসলামপন্থিদের আগে নিজেদের জায়নবাদী চিন্তা চেতনা পরিহার বা ত্যাগ করতে হবে।


আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে রংপুরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ


– অর্থাৎ মুসলমানদের ‘জাতি’ হিশাবে কল্পনা করা বন্ধ করতে হবে। ইসলাম নামে ধর্ম, দ্বীন, আদর্শ আছে, কিন্তু ‘মুসলিম সংস্কৃতি’ নামে আরবদের সংস্কৃতি স্থানীয় সংস্কৃতির ওপর চাপিয়ে দেবার কোন ইসলামী যুক্তি নাই।

মানুষ বিচিত্র, বিভিন্ন জনগোষ্ঠিতে বিভিন্ন ভাবে মানুষের বৈচিত্র প্রকাশিত। সবাইকে আরব বানাতে হবে কেন? বৈচিত্র ও বিভিন্নতার মধ্যেই সৃষ্টির আনন্দ, স্রষ্টার মহিমা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য কায়েমে আনন্দে

– ‘অনেক’ না থাকলে ‘এক’ কথাটার কোন অর্থ হয় না। সবকিছুকে একাট্টা খোপে ঢুকিয়ে ফেলার মধ্যে নয়, অনেককে অনেক ভাবে বিকশিত হতে দেওয়ার মধ্যেই তৌহিদের আনন্দ। তিনি নব নব রয়পে নিত্যই নিজেকে প্রকাশ করেন, নইলে তিনি সৃষ্টির কর্তা কিভাবে?


আরও পড়ুনঃ ফিলিস্তিনি নির্যাতিতদের পক্ষে সোচ্চার এনডিপি


ইসলাম জাতিবাদ কায়েম করতে আসে নি, তার উচ্ছেদ করতে এসেছে। ফলে বাঙালি জাতিবাদ কিম্বা ইসলামী জাতিবাদ উভয়ের সঙ্গেই ইসলামের বিরোধ মৌলিক।

ইসলাম রক্ত, গায়ের রঙ, জন্ম, জাত, পাত ইত্যাদি দিয়ে মানুষকে বিচার করে না। কিন্তু আমরা করি। হয়তো তার শাস্তিও মুসলমানরা ভোগ করছে।

গিডিওন লেভি, নোয়াম চমস্কি, নরমেন ফিঙ্কেলস্টাইন প্রমুখদের ‘ইহুদি’ হিসাবে চিহ্নিত করা অন্যায়, কারন তাঁরা রক্ত, ভূখণ্ড, জাতিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ইত্যাদি

– অর্থাৎ যা কিছু মানুষকে অন্তরের ভেতর থেকে মানুষ হিশাবে বিকশিত হতে দেয় না, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখে, বার বার গর্তে ও গহ্বরে আমাদের টেনে নামিয়ে আনে


আরও পড়ুনঃ চোখের আদ্রর্তা বজায় রাখার জন্য যা যা করবেন


— সেই সব দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে নিপিড়িত মানুষের কথা মানুষকে বলতে শিখিয়েছেন।

কে ইহুদি কে মুসলমান্ম বিচার করেন নি। মনুষ্যজাতির পক্ষে কথা বলতে পারা ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লার নিকটবর্তী হওয়া। হজরত মুসা আলাইহে ওয়াসাল্লামও মুসলমানদের নবী। ইসলামের নবীকে সত্য বলা ও প্রচারের জন্য নিজের গোত্রের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরতে হয়েছে।

গোত্রবাদী বেদুঈন সভ্যতায় সেটা ছিল অবিশ্বাস্য ঘটনা। কিন্তু ইতিহাস আমরা পড়ি না, কিম্বা পড়লেও বুঝি না। ধর্মের ইতিহাস পড়লে সারাক্ষণ ইহুদি-নাসারাদের গালি দিতে শিখি।

দ্বীনের শিক্ষা ভুলে গেলে এক কদমও অগ্রসর হওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষ যারা আমাদের কথা শুনতে চায়, তাদের চিন্তা ও চিত্তবৃত্তির বিকাশ না ঘটিয়ে আমরা সাম্প্রাদায়িক হিংসা ও ঘৃণা ছড়াতে পছন্দ করি। এটা পথ না।


আরও পড়ুনঃ কৈ মাছ কেন মাটিতে উঠে আসে জানেন?


আমরা আবার প্যালেস্টাইন ও ইসরাইল নিয়ে কিছু কথা বলব আগামিতে। বিশেষত সংগঠন হিশাবে হামাস এবং তার বেড়ে ওঠার ইতিহাস এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে।

তার আগে আশা করব চিন্তা পত্রিকায় প্রকাশিত দুটো লেখা আগ্রহীরা পড়ে নেবেন: একটি ‘কেন হামাস গুলি ছোঁড়ে’ এবং দ্বিতীয়টি ‘সাব্বাশ হামাস! সাব্বাস প্যালেস্টাইন’।

আগেও বলেছি, পড়বার আগে আবারও বলি, ইসরাইল একটি দখলদার, হানাদার ও সামরিক-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র। খ্রিস্টিয় সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য ইহুদিদের নিজ দেশে স্থান দেয় নি। পুড়িয়ে মেরেছে।


আরও পড়ুনঃ ঈদে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি ও নৃশংস ইসরাইলঃ ফরহাদ মাজহার


সেখানে ক্ষান্তি দেয় নি। আরব ভূমি দখল করে শুধু ইহুদি ধর্মাবলম্বিদের জন্য ‘ইসরাইল’ নামক একটি ঔপনিবেশিক-হানাদার রাষ্ট্র (Settler_Colonial State) কায়েম করেছে। ইহুদি ধর্মকে আধুনিক জাতিবাদী মতাদর্শে রূপ দিলে তার রূপ কি দাঁড়ায় ইসরাইল হচ্ছে তার নজির। হামাসের লড়াই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুধু না, সাম্রাজ্যবাদেরও বিরুদ্ধে।

এবারও ইসরাইল বলছে তারা হামাসের রকেট হামলার জবাব দিচ্ছে, এবং তাদের টার্গেট হামাসের নেতৃত্ব এবং তাদের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করা।

কিন্তু হামাস ভয় পেয়ে তাদের তৎপরতায় ক্ষান্ত দেয় নি। তারা গাজা থেকে দক্ষিণ ইসরাইলের একাধিক শহরে রকেট ছুঁড়েছে।


আরও পড়ুনঃ ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে, সাধারণ মানুষ


ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপানো নানা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, কট্টরপন্থী ইহুদিদের উস্কানি বন্ধ এবং জেরুসালেমের শেখ জারা এলাকা থেকে ছয়টি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উৎখাতের উদ্যোগ বন্ধের জন্য হামাস ইসরাইল সরকারকে ১০ই মে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়। ইসরাইল তোয়াক্কা করে নি।

তখন গাজা থেকে রকেট ছোড়া শুরু হয়। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা জোরদার পূর্ব জেরুসালেম এবং আল আকসার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরাইল পাগলা হয়ে গিয়েছে। ফলে ইসরাইলকে প্রতিরোধের জন্য হামাসকে ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নাই।

তবে লড়াই শুধু ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিমীদের চলছে তা না। আমাদের চিন্তার ময়দানেও যুদ্ধ চলছে। সেটা বুঝতে পারা খুবই জরুরি।


লিংক- http://chintaa.com/index.php/chinta/


daisnews24.com এর সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন…
www.facebook.com/daisnews24

সর্বশেষ - ইত্রামি