সিরাজী ও চলে গেলেন না ফেরার দেশে | Daisnews24.com    
       
Daisnews24.com
মঙ্গলবার , ২৫ মে ২০২১ | ১২ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
       
  1. ENGLISH
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইত্রামি
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. পাঁচমিশালী
  12. প্রবাসে বাংলাদেশ
  13. ফটোগ্রাফি
  14. বিনোদন
  15. মতামত
     
               

সিরাজী ও চলে গেলেন না ফেরার দেশে

 
প্রতিবেদক
  নিউজ ডেস্ক
মে ২৫, ২০২১ ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
                       
                       

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী সোমবার (২৪ মে) রাত ১১টায় এই কবি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী এদেশের সংগ্রামশীল ইতিহাস ও মানুষ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রগতির অভিযাত্রা-রেখা ভাস্বর তার প্রায় অর্ধশত কবিতা বইয়ে রেখে চলেন সবার চোখ আড়াল করে।


শাকিল আনোয়ার, জেলা প্রতিনিধি।


তিনি আর আসবেন না আমাদের মাঝে বসবেন না বাংলা একাডেমির চেয়ারে। তিনি আর হাটবেন না কোন ২১শে বই মেলার স্টলে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজীর তৈরি করেছেন গদ্য যেন তার কবিতারই সহোদরা, আবার তা স্বতন্ত্রও বটে। বাংলা ও সর্বত্র সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ।

তার আখ্যানমূলক ও আত্মজৈবনিক সৃষ্টিও অনন্যতার দাবিদার। তাছাড়া অনুবাদ তার আর এক প্রিয় ভুবন যেখানে রুমী কিংবা রসুল হামজাতভকে আমরা বাংলায় পাই তার কারুকলমে।


আরও পড়ুনঃ গার্মেন্টস সেক্টর ঝুঁকির মধ্যে করোনার বিস্তারে


শিশুকিশোর সাহিত্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল। আধুনিকমনষ্ক নতুন প্রজন্মের বোধে বিশেষ প্রিয়তায় ধরা দেয় তার ছড়া, কবিতা এবং এ জাতীয় শিশুতোষ-কৈশোরক রচনা।

সবমিলিয়ে বাংলা সাহিত্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী এক বিশিষ্ট নাম যার বিবিধ রচনা অনূদিত হয়েছে বহু বিদেশি ভাষায়।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৪৮ ফরিদপুর জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আবুল হোসেন সিরাজী, মাতা জাহানারা বেগম।


আরও পড়ুনঃ মুক্ত সাংবাদিকতা গনতন্ত্রের আনুষাঙ্গিক


ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক (১৯৬৪), ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (১৯৬৬), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রকৌশল-স্নাতক (১৯৭০) ডিগ্রি লাভ করেন।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে– দাও বৃক্ষ দাও দিন (১৯৭৫), মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি (১৯৭৭), মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ (১৯৮১), হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি (১৯৮২), নোনা জলে বুনো সংসার (১৯৮৩), স্বপ্নহীনতার পক্ষে (১৯৮৩), আমার একজনই বন্ধু (১৯৮৭), পোশাক বদলের পালা (১৯৮৮), কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা (১৯৯০), সিংহদরজা (১৯৯০), ম্লান,


আরও পড়ুনঃ লোকে কী বলবে ? – সানজিদা


ম্রিয়মান নয় (১৯৯২), বিপ্লব বসত করে ঘরে (১৯৯৯), ছিন্নভিন্ন অপরাহ্ন (১৯৯৯), সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না (২০০০), সুগন্ধ ময়ূর লো (২০০০), মুখোমুখি (২০০১), হ্রী (২০০৫), কতো কাছে জলছত্র, কতোদূর চেরাপুঞ্জি (২০০৬), কাদামাখা পা (২০০৬),

ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই (২০০৮), শূন্য, পূর্বে না উত্তরে (২০০৯), ইতিহাস বদমাশ হলে মানুষ বড়ো কষ্ট পায় (২০০৯), একা ও করুণা (২০১০), যমজ প্রণালী (২০১১), আমার জ্যামিতি (২০১২), পশ্চিমের গুপ্তচর (২০১২), মিথ্যে তুমি দশ পিঁপড়ে (২০১৪), কবিরাজ বিল্ডিংয়ের ছাদ (২০১৫), বডিমিস্ত্রি ফেসবুক (২০১৬), যে শ্রেষ্ঠ একা (২০১৬), জো (২০১৭), আমি জেনারেল (২০১৮), সুভাষিত (২০১৯), ঈহা (২০১৯) ইত্যাদি।


আরও পড়ুনঃ আসছে আসিফ-পূজার মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘দু:খ নামের ঘর’


কবিতা সংকলনের মধ্যে– প্রেমের কবিতা (১৯৮৯), বেদনার চল্লিশ আঙুল (১৯৯০), জয় বাংলা বলো রে ভাই (২০০০), নির্বাচিত কবিতা (২০০১), তুচ্ছ (২০০৩), স্বনির্বাচিত প্রেমের কবিতা (২০০৪), কবিতাসমগ্র (২০১১), হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রেমের কবিতা (২০১৬) উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া আখ্যান হিসেবে– কৃষ্ণপক্ষে অগ্নিকা- (১৯৭৩), পরাজয় (১৯৮৮), আয় রে আমার গোলাপজাম (২০১৭) এবং অনুবাদ কর্ম হিসেবে- মৌলানার মন : রুমীর কবিতা (২০১৩), রসুল হামজাতভের কবিতা (২০১৯) উল্লেখযোগ্য। রয়েছে আত্মজৈবনিক গ্রন্থ- আমার কুমার (২০১০)।


আরও পড়ুনঃ অভিযোগ হচ্ছে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইল চুরি করেছেন।


গদ্যগ্রন্থ ও শিশুসাহিত্যের মধ্যে রয়েছে– দ্বিতীয় পাঠ (২০১০), মিশ্রমিল (২০১২), গদ্যের গন্ধগোকুল (২০১৮), পায়ে উর্বর পলি (২০১৮); ইল্লিবিল্লি (১৯৮০), নাইপাই (১৯৮৪), রাজা হটপট (১৯৯৯), ফুঁ (২০০১), ফুড়–ৎ (২০০৪), মেঘভ্রমণ (২০০৯), রে রে (২০১০), ছয় লাইনের ভূত (২০১১), একে শূন্য (২০১৫), কানাকানি (২০১৩), ছড়াছড়ি (২০১৮), মিলটিল (২০১৯)।

তার সম্পাদিত সাহিত্যপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (১৯৬৬-১৯৮০) আগুন আমার ভাই, শতদল, বনানী, কলকণ্ঠ, এবং স্বরগ্রাম।


পুরষ্কারঃ


হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা ভাষায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (২০১৬), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৭), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০৭), রূপসী বাংলা পুরস্কার, ভারত (২০১০), কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার (২০১০),

মহাদিগন্ত পুরস্কার, ভারত (২০১১), বঙ্গবন্ধু স্মারক পুরস্কার, ভারত (২০১৩), ফজল শাহাবুদ্দিন কবিতা পুরস্কার (২০১৬), সিটি-আনন্দ আলো পুরস্কার (২০১৭), আবিষ্কার পুরস্কার (২০১৭), জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (২০১৮), লেখিকা সংঘ পদক (২০১৮), আবু হাসান শাহীন স্মৃতি পুরস্কার (২০১৮), প্রথম আলো পুরস্কার, ভারত (২০১৯) ইত্যাদি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা-সংবর্ধনায় ভূষিত হয়েছেন।


আরও পড়ুনঃ কি হবে সিরাজগঞ্জ জেলা বেলকুচির রাজনীতি


কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। কর্মরত অবস্থা তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেলে সবার না ফেরার দেশে।

বাংলা সাহিত্যে এক নক্ষত্র ঝরে পড়লো বিশাল আকাশ থেকে। কবিকে আর দেখা যাবে না বাংলা সাহিত্যে অন্য তারাদের সাথে। গভীর শোকে শোকাবহ আজ বাংলার আকাশ বাতাস।


আরও পড়ুনঃ মানবতার সেবায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর কার্যক্রম


কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী’র জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা শ্রদ্ধা। কবিকে বাংলা ভাষী মানুষ কখনও ভুলবে না তিনি যা দিয়েছেন সাহিত্যে তা কখনও ভুলার নয়। তিনি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।

ওপারে ভালো থাকেন কবি। এ পথের যাত্রা একদিন আমরাও হবো। ওপর ওয়ালা আপনার জীবনের সমস্ত ভুল ক্ষমা করে আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই পার্থনা করি।


প্রতি মূহুর্তের সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন…

www.facebook.com/daisnews24

www.twitter.com/DaisNews24

www.facebook.com/groups/daisnews24

#DaisNews24

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস

%d bloggers like this: