'দার্শনিক' শুনলে আমার খুবই অপমান বোধ হয়ঃ ফরহাদ মাজহার | Daisnews24.com    
       
Daisnews24.com
রবিবার , ১৩ জুন ২০২১ | ১২ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
       
  1. ENGLISH
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইত্রামি
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. পাঁচমিশালী
  12. প্রবাসে বাংলাদেশ
  13. ফটোগ্রাফি
  14. বিনোদন
  15. মতামত
     
               

‘দার্শনিক’ শুনলে আমার খুবই অপমান বোধ হয়ঃ ফরহাদ মাজহার

 
প্রতিবেদক
  নিউজ ডেস্ক
জুন ১৩, ২০২১ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
                       
                       

আমার জীবনে আমি কখনই দার্শনিক, চিন্তক, বুদ্ধিজীবী, পণ্ডিত, অধ্যাপক কিম্বা ঐ জাতীয় কোন হম্বিতম্বি মার্কা কিছু হতে চাই নি।

ছেলেবেলায় আমি সবসময়ই শিং-ওয়ালা কিছু দেখলে ভয় পেতাম। সবচেয়ে ভয় পেতাম পাঁঠা দেখলে। এর কারণ ছিল পাঁঠাদের শিং আছে, একই সঙ্গে আছে উৎকট গন্ধ।


ফরহাদ মাজহার


আজকাল অনেকে আমাকে দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি বলে খামাখা কিছু মানুষের সাথে তুলনা করতে চান। সেটা অনর্থক। 

এই তকমাগুলো যোগ্য ব্যক্তিদের জন্যই ব্যবহার হোক। আমি এইসব কিছুই না। অতি তুচ্ছ সাধারণ একজন মানুষ।

অধ্যাপনা দূরের কথা নিজে যা বুঝি তা অন্যকে কখনই ভাল করে বোঝাতে পারি না। ‘চিন্তা’ কথাটা ‘করা’ বা ক্রিয়াপদ হিশাবে, বুঝতে বুঝতেই আমার যাবার সময় হাজির হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সফল মন্ত্রী মরহুম নাসিম সাহেবের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী

আজকাল তাই মনে হয়।। আমি চিরকাল আমার সকল বৃত্তি নিয়ে সজীব ও সক্রিয় থাকবার চেষ্টা করেছি। বুদ্ধিকে শাসনে রেখেছি, যেন তার সর্দারির খায়েশ দমন করে রাখা যায়।

কারন জীবন যাপন থেকে উঠে আসা উপলব্ধি-জাত প্রজ্ঞা একটা ধ্যানাবস্থার মতো। বোঝা যায়, কিন্তু সহজে অন্যকে বোঝানো যায় না।

তারপরও আমাদের কথা বলতে হয়, কারন আমরা সমাজে বহুজনের মধ্যে বাস করি। আমি বই পড়ি বটে, কিন্তু ঘোরতর ভাবে বই কিম্বা শাস্ত্র বিরোধী মানুষ। এর কারন হচ্ছে ছেলে বেলা থেকেই বুঝতাম বই ‘সহজ’-কে নাশ করে,

আরও পড়ুনঃ আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান এখনও নিখোঁজ

অর্থাৎ জন্মাবস্থা থেকেই যে ‘সহ-জ’ নিয়ে আমাদের জন্ম, যেমন, স্মৃতি — সেই স্বাভাবিক বা প্রকৃতিজাত বৃত্তি গ্রন্থ ভয়ানক ছারখার করে দেয়।

‘সহজ’ মানে যা আমরা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের অন্তর্নিহিত শক্তি বা প্রতিভা হিশাবে পাই। প্রায়ই আমার তাই শিশু হয়ে যেতে ইচ্ছা করে।

অনেক পরে আমার গুরু ফকির লবান শাহকে যখন ‘সহজ’ কথাটার অর্থ জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন ‘সহজ’ হচ্ছে আমরা শরীরসহ কিম্বা শরীরের সহিত মহাজনের কাছ থেকে একই জন্মমূহূর্তে যা পেয়ে জন্ম গ্রহণ করি। সহজ দেহ থেকে আলাদা কিছু নয়।

আরও পড়ুনঃ নিজের দেশই সেরা “দীপা খন্দকার”

আমি ‘দেহ’ কথাটার নতুন হদিস পেয়ে গেলাম। দ্রুত টের পেলাম পাশ্চাত্যের আধুনিক দর্শনে দেহ আশ্চর্যজনক ভাবে অনুপস্থিত। আমি প্রবল ভাবে নদীয়ার ভাবের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করি।

শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া শিখলাম যেন যা ‘অধরা’ তাকে ধরবার ভক্তি আমার মধ্যে গাঢ় হয়। গুরু বোঝালেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা আমার বাইরে যাকে ‘প্রকৃতি’ বলে আলাদা করে ভাবতে আমরা অভ্যস্ত, তা আসলে আমাদেরই শরীর। আমরা আমাদের শরীরের মধ্যেই বাস করি।

আরও পড়ুনঃ এলএ চেক বিতরণে রংপুর জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ

এখান থেকেই প্রাণবৈচিত্রভিত্তিক জৈব কৃষি বা ‘নয়াকৃষি’র ধারণা আমার মাথায় আসে। যে কৃষিতে মানুষ ও প্রকৃতি একাকার হয়ে যায়। এই আমার দেহচর্চা। নয়াকৃষি আমার শারীরিক চর্চা এবং ধ্যানের ক্ষেত্র হিশাবে গড়ে ওঠে। আমি চাষাভূষা হতে চাই। দার্শনিক হতে চাই না।

বই বা শাস্ত্র বিরোধিতা নদীয়ার ভাবজগতে এসে আমি নতুন করে শিখেছি। বই এমন এক টেকনলজি, যা বারবার যান্ত্রিক ভাবে ছাপা হয়।

এতে মনে হয় জীবন্ত মানুষ নয়, বই-ই বুঝি চিরায়ত বা শ্বাশ্বত সত্য ধারণ করতে এবং নিজেকে শ্বাশ্বত সত্য হিশাবে নিরন্তর উৎপাদনে সক্ষম।

আরও পড়ুনঃ মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে মারধরের শিকার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

এর ফলে বইপূজা বা গ্রন্থপূজা স্মৃতি এবং অন্যান্য সহজ বৃত্তির বিকাশে প্রধান অন্তরায় হয়ে ওঠে।

বই পড়া আমরা বাদ দেব, সেটা আমার যুক্তি না। কিন্তু ‘মানুষ ভজনা’ বাদ দিয়ে বই পূজার বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ার হওয়াটা প্রিন্টিং টেকনলজির দৌরাত্মের যুগে আমাদের আরও গভীর ভাবে ভাবা দরকার।

কারণ নতুন উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা বা আবিষ্কার একমাত্র জীবন্ত রক্তমাংসের মানুষের দ্বারাই সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ দেবহাটার সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিবৃতি

সহজ মানুষ ভজে দেখনারে মন দিব্যজ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে যখন খুব ছোট ছিলাম তখন আমি আমার মায়ের গর্ভের স্মৃতি মনে করতে চেষ্টা করতাম।

যখন একটু বড় হয়েছি তখন ‘গর্ভ’ বলতে বুঝতাম এটা ডিমের মতো একটা ব্রহ্মান্ড, সেখানে ‘ভ্রুণ’ মানে হচ্ছে যা কিছু প্রাণের বিকাশ প্রক্রিয়ায় ‘বর্জ্য’ হিশাবে আমরা ত্যাগ করি সেটাই চক্রাবর্তে আবার গ্রহণ করা।

নয়াকৃষি হচ্ছে এমন এক কৃষি যেখানে ‘বর্জ্য’ নামক কোন ধারণা নাই। আধুনিক কারখানার ‘বর্জ্য’ আছে, এবং তা কারখানার বাইরে ফেলবার জায়গাও আছে।

আরও পড়ুনঃ ফকির মজনু শাহ সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবি- কাপাসিয়া বাসীর

ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিভিলাইজেশান হচ্ছে বর্জ্যের সভ্যতা, যা প্রকৃতিকে দূষিত ও বাসের অযোগ্য করে তোলে। এর বিপরীতে নয়াকৃষিতে সব কিছুই প্রকৃতির চক্রাবর্তে বারবার ফিরে আসে। যে সভ্যতা ‘বর্জ্য’ উৎপাদন করে না তাকে নয়াকৃষির সভ্যতা বলা যায়।

আমি সেই সভ্যতার কারিগর হতে চেয়েছি। আগত আগামিকে ত্বরান্বিত করাই আমার কাজ। বীজ বুনেছি। অগ্রহায়নে ফসল তুলব, ইনশাল্লাহ।

তাই ‘দার্শনিক’ শুনলে আমার খুবই অপমান বোধ হয়। আমি তুচ্ছ মানুষ তুচ্ছই থাকতে চাই।


প্রতি মূহুর্তের সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন…

www.facebook.com/daisnews24

www.twitter.com/DaisNews24

www.facebook.com/groups/daisnews24

#DaisNews24

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস

%d bloggers like this: