‘গবেষক হতে চাই ’ - গবেষণায় তরুণদের আলোকবর্তিকা। | Daisnews24.com    
       
Daisnews24.com
সোমবার , ২১ জুন ২০২১ | ১২ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
       
  1. ENGLISH
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইত্রামি
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. পাঁচমিশালী
  12. প্রবাসে বাংলাদেশ
  13. ফটোগ্রাফি
  14. বিনোদন
  15. মতামত
     
               

‘গবেষক হতে চাই ’ – গবেষণায় তরুণদের আলোকবর্তিকা।

 
প্রতিবেদক
  নিউজ ডেস্ক
জুন ২১, ২০২১ ৬:২১ অপরাহ্ণ
                       
                       

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞান চর্চার স্থান। এখানেই স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য। স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত বিষয় সমূহ পড়ানো হয় এবং সেগুলো ব্যবহারিক ক্লাসে দেখানো হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি সেই বিষয়ে পুরো পৃথিবীতে কি গবেষণা হচ্ছে তাও জানানো হয়।  কিভাবে ওই বিষয়ে আরো বেশি উন্নতি করা যায় এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায় সেটি দেখানোর কথা থাকলেও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতে চলছে।

 

বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য গবেষণা কাজ শুরু করাটা পাহাড়সম শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় রিসোর্সের অভাবে। এছাড়া গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগীতার অভাব, প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে অজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশণার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা,  ফান্ডিং-এর প্রতুলতাসহ নানাবিধ সমস্যায় আগ্রহীদের অনেকেই হারিয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ গবেষণাক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গবেষণা ভীতি কাটিয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে শুরু হয় গবেষণা শেখার উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম “গবেষক হতে চাই:: Be Research BD (BRBD)” এর পথচলা। প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তের তরুণ গবেষকদের পথ দেখাচ্ছে।

 

ছবি-১ঃ গবেষক হতে চাই এর সুচনাকারী (মোঃ ছাবির হোসাইন), লোগো ও সহযোগী (মোঃ রাশিদুল ইসলাম)।

শুরুর গল্পটা

কিছু কথা হয়তো আমাদের জীবনকে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে, অনুপ্রেরণা দেয় জীবন যুদ্ধে। তেমনি চুয়েটের প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ আব্দুল ওয়াজেদের একটি কথা দারুণ ভাবে দাগ কেটে যায় একজন তরুণ গবেষকের মনে। “বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান” এই কথাটি শিক্ষক ও তরুণ  গবেষক, মোঃ ছাবির হোসাইন – কে নতুন করে ভাবতে শেখায় কেন বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এই মুখ্য উদ্দেশ্য পালনে ব্যার্থ হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি চুয়েটের সিএসই বিভাগের ২য় বর্ষের আলগোরিদম ডিজাইন এন্ড এনালাইসিস ল্যাব কোর্সটি পরিচালনার দ্বায়িত্ব পান। তিনি শিক্ষার্থীদের আলগোরিদম বিষয়ক গবেষণা ও প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে অনুপ্রেরণা দেন। কিছু শিক্ষার্থী অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ শুরু করলে সেমিস্টার শেষে কাজগুলোকে প্রদর্শণের জন্য পোস্টার প্রেজেন্টেশন আয়োজন করেন। ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করতে তিনি পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন নিজ খরচে। পরবর্তীতে তাঁর আনুপ্রেরণায় ও তত্ত্বাবধায়নে সেই বছরই দুটি পেপার প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে তাঁর প্রচেষ্টায় ১০ এর অধিক গবেষণা প্রবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও জার্ণালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশের ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বেই বিরল। বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আসলে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। তাঁর এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে  এই প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। তবে সব ক্ষেত্রেই  প্লাটফর্মটির কাজ এতো সহজ ছিলো এমন নয়। অনেকেই এই উদ্যোগকে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করে। সব বাঁধা কাটিয়ে ২০২০ সালের ২৩ শে জুন শুরু হয় “গবেষক হতে চাই” প্ল্যাটফর্মের পথচলা। প্ল্যাটফর্মটি যাত্রার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সমস্ত কার্যক্রমে সর্বাত্নক সহযোগিতা করে আসছেন চাইনিজ একাডেমী অফ সাইন্সের পিএইচডি গবেষক ও গ্রীন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার মোঃ রাশিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে অনেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে কাজ করেছেন যাদের মধ্যে মোঃ নুরুল আমিন (সহকারী অধ্যাপক, অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), সালমান ফজলে রাব্বি (প্রভাষক, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ), মোঃ উজ্জ্বল তালুকদার (প্রভাষক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), রুবেল হোসেন (প্রভাষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), মোঃ রবিউল ইসলাম (বিভাগীয় প্রধান, ইইই বিভাগ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি), মোঃ ওমর ফারুক জাহাংগীর (টিচিং এসিস্ট্যান্ট, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মোঃ মাহমুদুল হাসান মুন (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), জিল্লুর রহমান (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), প্রমুখ উল্লেখ্যযোগ্য।

 

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ১৩৮ টি দেশের মধ্যে ১১২তম অবস্থানে রয়েছে৷ বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে; স্কোর মাত্র ১৬ দশমিক চার৷ আর আমরা জানি, একটি দেশের টেকসই উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের উপরে (ডি. ডব্লিউ, জার্মানী, ১৮/১২/২০২০)। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করাই এই প্ল্যাটফর্মের মুখ্য উদ্দেশ্য।

 

প্ল্যাটফর্মটি তার মুখ্য উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের নিমিত্তে গবেষণা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি; অভিজ্ঞ গবেষক তৈরি; গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি; উচ্চশিক্ষায় (মাস্টার্স ও পিএইচডি) অনুপ্রেরণা প্রদান করাসহ নানাবিধ কাজ করে যাচ্ছে। 

 

গবেষক হতে চাই – এর কার্যাবলী

উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে বিশ্ব বিখ্যাত গবেষকগণের পরামর্শে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। পরামর্শকগণের মধ্যে মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইদুর রহমান, আমেরিকার ভার্জিনিয়া টেক-এর অধ্যাপক সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফয়সাল ইসলাম চৌধুরী অন্যতম। অধ্যাপক সাইদুর রহমান প্ল্যাটফর্মটির উত্তরোত্তর উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবিনার/সেমিনারে লেকচার প্রদান করছেন। প্ল্যাটফর্মটি যে সমস্ত কাজ পরিচালনা করে তন্মধ্যে গবেষণা, প্রকাশনা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক অফলাইন/অনলাইন ফ্রি ট্রেনিং/কোর্স পরিচালনা করা; সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনার ও ওয়েবিনার আয়োজন করা;  গবেষণা সম্পর্কিত রিসোর্সসমূহ (যেমনঃ বই, গবেষণা প্রবন্ধ, ওয়েবসাইট, ইত্যাদি) শেয়ার করা।

 

বাংলায় ১ম ‘কিভাবে গবেষক হব?’ – শীর্ষক অনলাইন ট্রেনিং

নতুনদের গবেষণায় হাতেখড়ি দিতে ২২টি উচ্চ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে “কিভাবে গবেষক হবো?” শীর্ষক ফ্রি ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হয় ২০২০ সালের জুলাইয়ে। কোর্সটির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোঃ ছাবির হোসাইন। ক্লাস পরিচালনাসহ এই কাজে সহযোগিতা মোঃ রাশিদুল ইসলাম এবং মোঃ নুরুল আমিন। কোর্সটি গবেষণায় আগ্রহীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। রেকর্ডকৃত লেকচারসমূহ ইউটিউবে ‘গবেষক হতে চাই লেকচার সিরিজ’ আকারে আপলোড করলে তা শেষ ভিডিও আপলোডের পর থেকে মাত্র ৬ মাসে ৩১ হাজারের বেশিবার ভিউ হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরাও লাভবান হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যলয়ের গন্ডী পেরিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরকেও আশার আলো দেখাচ্ছে লেকচার সিরিজটি (https://tinyurl.com/researchlectures)। কোর্সটি প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটে আপলোড করা আছে। প্রায় ১০০ এর অধিক কুইজে অংশগ্রহণ ও গবেষণা প্রপোজাল জমা দেয়া সাপেক্ষে কোর্স সম্পন্নকারীদের নাম প্রদর্শিত হয় ওয়েবসাইটটিতে (https://www.beresearcherbd.com/news)। সম্পূর্ণ ফ্রি এই কোর্সে দিন-দিন নিবন্ধন ও সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

রিসার্চ গাইডলাইন সিরিজ 

শুধু রিসার্চ এর ব্যাসিক জানলেই রিসার্চ করা সম্ভব নয়। রিসার্চ কিভাবে করতে হবে এই জন্য সঠিক গাইডলাইন জানা জরুরি। তাই,  রিসার্চ গাইডলাইন সিরিজে এ শেখানো হয়েছে কিভাবে ভালো ইম্প্যাক্টফুল রিসার্চ পেপার লেখা যায়, কিভাবে রিভিউ পেপার লিখা যায়। অধ্যাপক ডঃ সাইদুর রহমান ও ডঃ নওশাদ আমিন (ইউনিভার্সিটি তেনেগা ন্যাশনাল) এই সিরিজে রিসার্চ এর মৌলিক বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করেছেন এবং ভাল রিসার্চ করার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

রিসার্চ আইডিয়া সিরিজ

নতুন গবেষকরা প্রায়শই তাদের ফিল্ড সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রয়োজনীয় টুলস, পাবলিকেশন, ট্রেন্ডিং রিসার্চ আইডিয়ার মতো ব্যাপর গুলোতে খুব ভালো জ্ঞান রাখতে পারে না – যা ভালো রিসার্চার হবার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি নিয়মিত রিসার্চ আইডিয়া সিরিজ আয়োজন করছে। এই সিরিজটিতে অভিজ্ঞ রিসার্চারগণ তাদের স্বস্ব ফিল্ডের  ট্রেন্ডিং রিসার্চ আইডিয়া, প্রয়োজনীয় স্কিল ও টুলস, পাবলিকেশন টিপস, স্পিকারের বর্তমান ও অতীত রিসার্চ প্রোজেক্ট, কোলাবোরেশোন টিপস এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে থাকেন।

 

গত ১৯ মার্চ ২০২১ তারিখে শুরু হওয়া সিরিজটিতে ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য ৯ জন গবেষক লেকচার (লিংকঃ https://tinyurl.com/ResearchIdeaSeries) প্রদান করেন। স্পিকারগণ হলেন ডঃ রবিউল ইসলাম, Senior Lecturer, University of Wollongong, Australia; ডঃ মো আব্দুল আলিম, Associate Lecturer, Western Sydney University, Australia; ডঃ মো কবির হোসেন, Assistant Professor, Dhaka University of Engineering & Technology; ডঃ মোল্লা হাসান, Assistant Professor, Alfred University; ডঃ আশরাফ দেওয়ান, Academic, Curtin University, Australia; ডঃ মো ইমরান খান, Associate Professor, Jessore University of Science and Technology; ডঃ আব্দুল্লাহ আল ইমরান, Postdoctoral Research Fellow,  University of Sydney; ডঃ মোহাম্মদ সামশুল আরেফিন, Professor, CUET এবং ডঃ সাইফুর রহমান,  Virginia Tech, USA।

ছবি-৪ঃ রিসার্চ আইডিয়া সিরিজে প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন অধ্যাপক সাইফুর রহমান (ভার্জিনিয়া টেক, আমেরিকা)।

 

পাইথন ফর রিসার্চ (মাল্টিডিসিপ্লিনারী) শীর্ষক অনলাইন ফ্রি কোর্স

গবেষণা সফতার একটা বড় অংশ নির্ভর করে ডাটা প্রসেসইং, এনালাইসিস ও ভিজুয়ালাইজেশন – এর উপর। আর গবেষণার এসব কাজের জন্য পাইথন বেশ জনপ্রিয়। প্রায় সকল গবেষণা ফিল্ডেই পাইথন ব্যাবহার উপযোগী। বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেই গবেষণায় উৎসাহীদের জন্য পাইথন ফর রিসার্চ নামক ফ্রি কোর্সের আয়োজন করা হয়। কোর্সটিতে মোট পাঁচটি মডুউলে পাইথনের বেসিক ব্যবহার থেকে শুরু করে হাতে-কলমে গবেষণায় পাইথনের ব্যবহার দেখানো হচ্ছে।

 

কোর্সটিতে মেন্টর হিসেবে আছেন মোঃ ছাবির হোসাইন এবং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে আছেন মাহমুদুল হাসান মুন (সিএসই বিভাগ, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) । গত ৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে শুরু হওয়া এই কোর্সটির ক্লাস চলামান রয়েছে। প্রায় ১,২০০ জন প্রাথমিক আবেদনকারী থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ৮৫ জন শিক্ষার্থীকে সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। লাইভ ক্লাসের পাশাপাশি অন্যান্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রেকর্ডকৃত ক্লাসসমূহ ইউটিউবে আপলোড করা হচ্ছে (লিংকঃ https://tinyurl.com/Pythonforresearchlectureseries)।

উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গাইডলাইন সিরিজ

গবেষণা ক্ষেত্রে ভালো কাজ করার জন্য দেশে ও দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা একটা বড় ভূমিকা রাখে। অধ্যাপক ডঃ সাইদুর রহমান তাঁর অর্জিত জ্ঞান থেকে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য জটিল বিষয়গুলো সাবলিলভাবে উপস্থাপন করেন। দুইটি পার্টে বিভক্ত এই গাউডলাইন লেকচারে (লিংকঃ https://tinyurl.com/higherstudyseries) উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য, ডিগ্রির প্রকারভেদ, রিসার্চ টপিক, ফান্ড সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

 

গবেষণা প্রশ্নোত্তর সিরিজ

নতুন গবেষকদের জন্য গবেষণা করা খুব একটা সহজ নয়, এখানে অনেক রকমের প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু অনেক সময় তারা এই প্রশ্নগুলো রিসার্চার বা সুপারভাইজারদের থেকে জেনে নিতে ভয় পান বা সংকোচবোধ করেন। তাই, তাদের জিজ্ঞাসাগুলোর নিয়মিতভাবে উত্তর দিয়ে থাকেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও মোঃ ছাবির হোসাইন যা রিসার্চ কোয়েশ্চেন-এনসারিং সিরিজ আকারে চ্যানেলে আপলোড করা আছে।

 

প্রয়োজনীয় রিসোর্স শেয়ারিং

গবেষক হতে চাই প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবেই গবেষণা বিষয়ক প্রয়োজনীয় রিসোর্স (পেপার, বই, ভিডিও, ওয়েবসাইট, টুলস, ইত্যাদি) শেয়ার করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ গবেষকগণ তাদের অর্জিত জ্ঞান থেকে নতুন গবেষকদের জন্য বিভিন্ন রিসোর্স দেয়ার পাশাপাশি সেগুলো সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করে থাকেন।

 

দেশে প্রথম বারের মত রিসার্চ ক্যাম্পাস এম্বাসেডর নিয়োগ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম প্রসারের লক্ষে প্রথমবারের মত ক্যাম্পাস রিসার্চ এম্বাসেডর নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশ-বিদেশের ৪২ টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছইয়ের পর থেকে ৭৪ জন রিসার্চ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৩০ টি প্রতিষ্ঠান থেকে রিসার্চ এম্বাসেডর নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

কার্যক্রমসমূহের প্রভাব, পরিবর্তন ও অর্জন

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গবেষক হতে চাই প্ল্যাটফর্মটির কাজ ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিংগাপুর, জাপান, জার্মানী, কানাডাসহ ৩৪ টি দেশে। এই সমস্ত দেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্যরাও লাভবান হচ্ছে এর কার্যক্রমের দ্বারা। তাদের কার্যক্রম থেকে গাইডলাইন নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি এট বাফেলো থেকে এমপিএইচ ডিগ্রী শেষ করেছেন বলে প্রসংশা করে ফেসবুকে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম। লেকচারগুলো দেখে গবেষণা শুরু করার পাশাপাশি অনেকেই গাইডলাইন অনুসরণ করে বিখ্যাত জার্ণালগুলোতে প্রকাশণা করতে সমর্থিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ শাহরিয়ার আহমেদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ কাম্রুল হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের অনন্যা হক অন্যতম।

 

আর ইউটিউবে আপলোডকৃত লেকচারগুলোর কমেন্ট থেকে এর প্রভাব কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যায়। খন্দকার রিয়াজুল কওনাইন বলেন, “আপনার লেখা ও উপদেশ খুবই কার্যকরী এবং তথ্যবহুল। যদি নতুনরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এটা অনুসরণ করে তবে তারা উপকৃত হবে এবং সহজেই তাদের লক্ষ্য ছুঁতে পারবে। আপনার জন্য শুভকামনা।”  মোঃ আবু তাহের খান কমেন্ট করেন, ”স্যার আপনাদের উদ্দ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আপনাদের মতো শিক্ষকদের হাত ধরেই এগিয়ে যাক দেশ ও জাতি।” নেমাতুল্লাহ আবু নাবিল বলেন, ”স্যার, আমি আপনার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শুনে অভিভূত। সত্যি আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজ থেকেই আমি গবেষণায় অগ্রসর হতে চাই।

 

সবচেয়ে আশার বানী হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মটির লেকচারগুলো অনুসরণ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো; মেছবাহ উদ্দীন নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে এ সংক্রান্ত পোস্টে প্ল্যাটফর্টির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

 

প্ল্যাটফর্মটি সমসাময়িক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর উপর আলোচনা/ওয়েবিনার আয়োজন করে থাকে। গবেষক হতে চাই – এর ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৩ জুন ২০২১ তারিখে ‘বাংলাদেশের গবেষণার বর্তমান অবস্থা ও তা থেকে উত্তোরণের সম্ভাব্য উপায়’ – শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ সামশুল আরেফিন (চুয়েট, বাংলাদেশ)। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেনঃ অধ্যাপক মোঃ সাইফুদ্দিন শাহ (ভাইস-চ্যাঞ্চেলর, ফেনী ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ), অধ্যাপক সাইফুর রহমান (ভার্জিনিয়া টেক, আমেরিকা), অধ্যাপক সাইদুর রহমান (সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া) ও অধ্যাপক মোঃ আতিকুর রহমান আহাদ (ওসাকা ইউনিভার্সিটি জাপান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ)। আলোচনাটি পরিচালনা করবেন মোঃ ছাবির হোসাইন। এই আলোচনার মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, কিছু গুরুতবপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণায় এগিয়ে যাবে।

 

 

প্ল্যাটফর্ম ও এর সূচনাকারীর স্বীকৃতি

প্ল্যাটফর্মটি গবেষনা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছে স্বীকৃতি। ২০২১ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় ‘হার না মানা ১০০ তরুণের গল্প’ নামক একটি বই যাতে উঠে এসেছে প্লাটফর্মটির সূচনাকারী মোঃ ছাবির হোসাইন ও তার টিমের প্রচেষ্টার কথা। মোঃ ছাবির হোসাইনের ভিন্নধর্মী নানা উদ্যোগের অনুপ্রেরণা, শুরুর গল্প, চ্যালেঞ্জ, সফলতা, অর্জন ইত্যাদি বিষয় সুনিপুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

 

IEEE Bangladesh Section কর্তৃক আয়োজিত IEEE Bangldesh Section SB, WIE AG AND SB SOCIETY CHAPTERS’ ADVISORS COUNSELORS AND MENTORS MEET UP 2021 – এ মোঃ ছাবির হোসাইনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে অধ্যাপক সিলিয়া শাহনাজ (ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট; চেয়্যারম্যান, IEEE Bangladesh Section) বলেন,” চুয়েটের ছাবির হোসাইন, তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।” তিনি উপস্থিত লিডারদের প্রতি আরও অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত আধাঘন্টা করে সময় ব্যয় করার জন্য।

 

মোঃ ছাবির হোসাইন এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার (হাইটেক পার্ক  কর্তৃপক্ষ) ও আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্দ্যোগে পরিচালিত ‘ইউনিবেটর’ প্রোগ্রামের জাতীয় মেন্টর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিবেটর প্রোগ্রামে চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত আইডিয়াগুলোকে বিজনেস ভেঞ্চারে চালু করা পর্যন্ত দেখভালের জন্য সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন মেন্টর নিয়োগ করা হয়েছে।

 

প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মোঃ ছাবির হোসাইন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “মোঃ ছাবির হোসাইন, একজন স্বপ্রোণদিত তরুন, উজ্জ্বল নক্ষত্র, উদ্ভাবনী শিক্ষাবিদ ও গবেষক। সে তাঁর টিম  (মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মোঃ নুরুল আমিন, রুবেল আহমেদ, মোঃ ওমর ফারুক জাহাঙ্গীর) – এর সাথে বাংলাদেশী নতুন গবেষক ও সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করে লোকাল বা আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চশিক্ষায় অংশ নিতে সাহায্য করছে। আমিও নতুন গবেষক ও গবেষক কমিউনিটিকে সাহায্য করতে চাই। যেহেতু রিসার্চ ও পাবলিকেশনে অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই আমি তাঁর (মোঃ ছাবির হোসাইন) সাথে পাবলিকেশন ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে কন্টেন্ট তৈরী কাজ করছি। রিসার্চ কমিউনিটির কল্যানে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ফেসবুক, ইউটিউব ও লিংকডইন – এ শেয়ার করছি।” 

 

ভবিষ্যৎ ভাবনা

কেন এ ধরণের গবেষণায় নিয়োজিত আছেন জানতে চাইলে মোঃ ছাবির হোসাইন জানান, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান হিসেবে পরিণত হোক। শুধু চূড়ান্ত নয়, যেকোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা যাতে গবেষণা করতে পারে সে বিষয়ে জোর দেয়া। এজন্য কনফারেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ রেজিষ্ট্রেশন ফি প্রদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানো দরকার। কেননা একজন শিক্ষার্থীর গবেষণার হাতে খড়ি স্নাতক পর্যায়ে হলে, সে পরবর্তী ধাপে (মাস্টার্স ও পিএইডি) ভালো গবেষক হওয়ার রাস্তা সহজ হবে। আর একজন ভালো গবেষক দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রখাতে পারে। আশা করা যায় আমার  এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষার্থী ও  শিক্ষকদের গবেষণায় উদবুদ্ধ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো  জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিনত হবে।

বর্তমান চলমান বহুল চাহিদাসম্পন্ন পাইথন ফর রিসার্চ কোর্সের কার্যক্রম শেষ হলে প্রয়োজনীয় আরও কিছু ফ্রি ট্রেনিং -এর ব্যবস্থা করবে প্লাটফর্মটি যার মধ্যে এসএসপিএস (SPSS) ফর ডাটা এনালাইসিস, ম্যাটল্যাব (MATLAB) ফর রিসার্চ অন্যতম। এছাড়াও গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য রিসার্চ ইন্টার্নশিপপের ব্যবস্থা এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোলাবোরেশোনের সুযোগ করে দেবার পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।

 


তথ্য সংগ্রহ ও লেখনি –

কাজী নাঈম রিয়াজ

ক্যাম্পাস রিসার্চ এম্বাসেডর, গবেষক হতে চাই

৪র্থ বর্ষ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।


প্রতি মূহুর্তের সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন…

www.facebook.com/daisnews24

www.twitter.com/DaisNews24

www.facebook.com/groups/daisnews24

#DaisNews24

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস

%d bloggers like this: